রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০০৯

ক্লান্ত এবং ক্ষুধার্ত হবার গল্প

রাত্রিবেলার মানুষগুলো
পথের মাঝে সুখ খুঁজে পায়
আমি হাঁটি কেবল উদ্দেশ্য-গন্তব্যহীন
যেদিকে পথ পাই যাই
সুখ নয়.. ক্লান্তি কুড়াবো
পথে যদি পাই

পলাশী, ফুলার রোড
বিবেকানন্দের সামনে দিয়ে
ছোট পুকুরটার ধার ঘেঁষে
জগন্নাথের গেইট.. তারপর
শামসুন্নাহার হল, লোকারণ্য টিএসসি..
পাবলিক লাইব্রেরির জানলাগুলো...
মধুর ক্যান্টিন.. একটু দাঁড়াই..
নজরুল সৌধের শীতল পাঁচিল ছুঁই..

এরপর আজিজ মার্কেট দুই হাত তুলে ডাকে..
থামি না... কাঁটাবন এসে যায়...
এক সাদা বিলাতী কুকুর তেড়ে এল,
আমি হেসে ফেললাম..
তারপর সোনালী মাছগুলো সাঁতার কাটলো..
হঠাৎ নীলক্ষেতের মানুষগুলো আমায় টেনে নিল চুম্বকের মতো..
তারপর ঠেলতে ঠেলতে ওভারব্রীজ পার করে..
নিউমার্কেটের দুই নম্বর গেটে উগরে দিল,
দেখি দু'টো মেয়েমানুষ হাসছে,
এদের একজনকে আমি চিনি , "ভাল আছেন?"
চিনেও চিনল না ..যাক
আমি না থেমে তিন নম্বর গেট পেরিয়ে নিঃশ্বাসের উত্তাপ টের পাই..
তারপর চন্দ্রিমা, সুবাস্তু, ইস্টার্ণ মল্লিকা.. অনেকটা পথ..
এবার ঘুরে হাঁটা দিই উল্টো পথে..
চাদনী চকের মুখে আমার ছুঁয়ে দিল এক নগরবালিকা..
অবধারিত ভাবে.. আমি ওকে ভালবেসে ফেলি,

একী - ঘামছি কেন আমি,
সারাটা দিন কিচ্ছু খাইনি, পানিও না
দেখতে চেয়েছি, কতটা ক্লান্ত - ক্ষুধার্ত হলে..
কবিতার ভুত দৌড়ে পালায়..
বুকের মধ্যে ধ্বক করে ওঠে ক্ষিধে..সারা শরীর দুলে ওঠে..
ইডেন কলেজের মেয়েগুলোকে দেখেও দেখি না..
মাথার চিন্তাগুলো কেবল ঐখানটায় এসে জট পাকিয়ে যাচ্ছে,
একটু শুতে হবে.. একটু কিছু খেতে হবে... একটু জল...
ঘোলাটে লাগছে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড.. পলাশীর আবদ্ধ বাজার..
পা চলতে চায়না... খুব কষ্ট হয়... চাবি ঘুরাতে...
তালার মুখ হাঁ করাতে...
দেখি ব্যস্ত বিছানা তড়িঘড়ি করে উঠল..
আমায় কোলে করে শোওয়াল..
পিঠ ঠেকিয়ে আমি অবাক -
নিজের অজান্তে কবিতা চলছে ... প্রলাপ বকছি...
কতটা ক্লান্ত হলে... কবিতা উড়ে যেতে চায়... পারে না...

ভীষণ খিদে.. ইচ্ছে হয় গোটা ডাইনিং হল গিলে খাই...
দেখি সাকিব সেঞ্চুরী করছে...
স্বচ্ছ ঝোলে মুরগী ভাসছে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন