সারবাঁধা অনেকগুলো কৃষ্ণচূড়ার গাছ,
ডিসেম্বরে তখন বার্ষিক পরীক্ষার সময়
একশোটা রোদ্দুর যেন গাছগুলোর ডালপালা চিরে
আছড়ে লুটোপুটি খেত, কবেকার চুন সুরকিতে..
আমার প্রথম ইস্কুল..
সকাল সকাল পরীক্ষার দিন
ঠান্ডায় হাত যেন চলতে চাইত না
কী ভীষণ ভয়ংকর অংক পরীক্ষা
নতুন নতুন পেন্সিল আর রবারের গন্ধে কেমন ভরে থাকত বিশাল ঘরটা
মস্ত বড় পরীক্ষার ঘর.. পরীক্ষা পরীক্ষা গন্ধ..
পরীক্ষা শেষ হলে মজার এক বন্ধ আসত,
তখনও কৃষ্ণচূড়ার লাল লাল মুখ নিয়ে বসে থাকত আমার ইস্কুলটা
আমার প্রথম মাঠ,
ছোটবেলাকার কারো সাথে কৃষ্ণচূড়ার রেণু নিয়ে খেলা.. বন্ধুহীন শৈশবের বেলা
নিজেকে নিয়ে তখন অঢেল সময়..
সাড়ম্বরে আসত ছাব্বিশ মার্চ..
সবাই লেফট-রাইট করত, আমি কেবল হুমড়ি খেতাম
আরো বড় এক মাঠ ছিল, সবাই স্টেডিয়াম ডাকত,
সবাই কত কী করত..
আমি কেবল বোকার মত দেখতাম..
যে বাসাটায় আমরা ভাড়া থাকতাম তার সামনের পথে
শিমুলের তুলো উড়ে উড়ে আসত..
বন্ধ ঘরে বুকের ভেতরে একটা মন পালাই পালাই করত,
সেই পুরনো বাড়িটার কোণায়, শ্যাওলায় শ্যাওলায়..
আমার অদ্ভুত শৈশবটুকু ফেলে আসতে হয়েছে ।।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন