গলির মোড়ে পৌঁছামাত্র
রাত পৌনে চার
আঁধারের স্বচ্ছ কলজেটাকে খুবলে তুলে
লেপ্টে দেয়া হয়েছে আকাশের শরীরে
মৃত্যুর মতন নিস্তব্ধতা প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টে...
নির্জন পথ, সঙ্গ দিচ্ছে
বিদ্যুতের তারে লেগে থাকা প্রতিটি মৃত বাদুড়
ভাঙ্গাচোরা বাসটার গা ঘেঁষে যাই
তার বুকের কষ্ট আর
একটি বেড়ালের শরীর
মিশে আছে নর্দমার ভেতর
কলার খোসা এবং সবজি বিক্রেতার দুঃখের মাঝে
কিছু দূরে
একটা বিলবোর্ডকে ঘিরে কিছু কুকুর পড়ে আছে
কর্পোরেশনের আবর্জনাবাহী গাড়িটা
মাঠের ধারে বিকল,
আবর্জনার স্তুপ তাই ডাস্টবিন ফুঁড়ে
সমস্ত শহরে গন্ধ বিলোচ্ছে..
পথের পাশে তিনটি ভাসমান পরিবার
এবং একটি ঘুমন্ত শিশু
তারপর কেবল অন্ধকার...
হঠাৎ
সেই অন্ধকারের ভেতর ভেসে ওঠে মৃত বন্ধুর মুখ...
পলক ফেলি,
"তুই তো বেঁচেই গেছিস, বন্ধু
আমার যে বড় কষ্ট..
চেয়ে দ্যাখ..
আরো একটি শিশু ঘুমিয়ে পড়েছে,
তার চোখের জল শুকিয়ে যাচ্ছে,
তার বুকের হাড়গুলো তাকিয়ে আছে আমার দিকে,
ওর পাকস্থলিতে ক্ষুধা ওঁৎ পেতে আছে
ঘুম পালালেই জাপটে ধরবে ওকে,
শিশুটি কাকে জাপটে ধরবে বল..."
আবার চলতে হয়
কুয়াশার মধ্যে নিজেকে একলা লাগে...
বন্ধুর মুখটা ধীরে ধীরে মিশে যায়
দেয়ালে লেপ্টে থাকা একটি লাল অক্ষরের ভেতর ।।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন