বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০০৯

কতটা একলা হলে কেউ

কতটা একলা হলে কেউ
কেবল নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনে
তার সাথে মিশে থাকে বাতাসের কিছু কথা
মাঝরাতের বিষণ্ন এক টুকরো অন্ধকার
স্যাঁতস্যাতে ঘুমোবার ঘরে পুরনো এক ফ্যানের কান্না
- আর কেবল নিঃসঙ্গতা
শেষ রাতে এক ছলক আলোয় ভেঙ্গে যাওয়া রাতের গভীরতা

কতটা একলা হলে কেউ
দিনের আলোর থেকে পথ খোঁজে পালাবার
আর জীবন থেকে
হারিয়ে যাওয়া প্রেম থেকে
বুকের একটি জায়গায় কেউ থাকেনা, সেখানে

শরীরের কোথাও এক টুকরো পুরুষমানুষ থাকে
কতটা একলা হলে কেউ
কেবল নিজেকে আদর করে ফেরে
কারো চোখে চোখ রাখতে ভয় পায়
ভুলে যায় ।।

গাঢ় এক দুঃখ

অনেক দীর্ঘশ্বাসের শেষে গাঢ় এক দুঃখ এসেছে
সন্ধ্যে নামার সাথে সাথে এই দুঃখটা জাপটে থাকে সারাটা শরীর,
দুচোখের মাঝামাঝি কোথাও কান্নারা বসে আছে অপেক্ষায়,

এভাবেই সন্ধ্যারা সকালের পাশে
তিল তিল গড়ে তোলে গাঢ় অন্ধকার
শব্দের গা বেয়ে নৈঃশব্দের কষ
তার ঠিক বাঁ পাশে
একটা অতৃপ্ত মাংসের টুকরো
রোদের মৃতদেহ নিয়ে
বল্গাহীন দুঃস্বপ্ন বুকে...

পার্শ্বচরিত্র

অদ্ভুত এক নাটক হচ্ছে জীবন
বড়ো বড়ো নায়ক আর নায়িকাদের ভীড়ে
কোনরকম পার্শ্বচরিত্র আমি এক
ঝড়-জল-রোদ বাচিয়ে বেঁচে থাকি,
সকাল সকাল কিছু একটা অজুহাতে ঘুম শেষ হয়
তারপর নানা একঘেয়ে কাহিনীতে দিন বুড়ো হয়
রাতে ঘুম লাগার আগ পর্যন্ত
মন খারাপ করা অন্ধকারে গা-ডুবিয়ে বসে থাকি ...

কিছু কিছু সুখস্মৃতি আছে
তাই মাঝে মাঝে উল্টে-পাল্টে দেখি,
স্যাঁতাপড়া আনমনা ছন্নছাড়া কষ্টে
ভিজে থাকে ভেতরে কোথাও
একা অপেক্ষায় থাকি, কোন এক বাতাসের
দীর্ঘশ্বাস উঠে আসে, চাপা দিই..

মাঝে মাঝে হাঁটার সময় আকাশ দেখি
ভাগ্যিস কারো চোখে পড়ি না
গলির কুকুরগুলোর সাথে দৌড়াই
যদিও মাঝে মাঝে কষ্ট লাগে,
পরে সব ঠিক হয়ে যায়, কম কথা তো নয়..
ঝড়-জল-রোদ বাচিয়ে বাঁচা হাজারো পাশ্বচরিত্রের অন্যতম ।।

থেমে আছে রোদ্দুর

বারান্দায়
থেমে আছে রোদ্দুর
তোমার ঠিকানা আর কদ্দুর

পিছলে যাচ্ছে সময়
বুকের মাঝে
ঢুকে যাচ্ছে ভয়

একা বসে আছ কোথাও
মুঠো ফোনে একটু জানাও
ভালবাসি তোমায় ভেবেই
ঘর খুজিঁ তোমার চোখেই

ভালবাসার রঙটা রোদে
মিশে আছে উল্টো চাঁদে
ভালবাসার রঙটা রোদে
মিশে আছে উল্টো চাঁদে


বারান্দায়
আজো আছে রোদ্দুর
জীবন মোহনা আর কদ্দুর

বদলে গেছে বিকেল
বেড়ে গেছে আজ যুদ্ধ-জেল

একা তুমি নেইতো আর কোথাও
তবু তুমি এখনও ভাবাও
ভালবাসা বলতে কিছু নেই
বেঁচে থাকা যেমন ছিল সেই

মাঝখানে পুড়ে গেলো মন
ঘুমহীন রাত্রি যায় এখন
মাঝখানে পুড়ে গেলো মন
ঘুমহীন রাত্রি যায় এখন

ঘুমে হারিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত

আমার রাতে ঘুমোবার আগে কষ্ট হয়
শুয়ে শুয়ে কষ্ট হয়
বুকের কোথাও ফোঁটায় ফোঁটায় কষ্ট জমে
রাত্রি যত গাঢ় হয়
কষ্ট বাড়ে
ঘুমে অচেতন হবার আগ পর্যন্ত

উল্টোপাল্টা স্বপ্ন হয় ঘুমের ভেতর

কোন না কোন ভাবে দিন যায়
তারপর ঘড়ির কাটায় টিক টিক রাত বাড়ে
রাতে ঘুমানোর আগে আবার কষ্ট হয়
উপুড় হতে কষ্ট হয়
ধীরে ধীরে বুকে জমে কষ্ট
এরপর রাত যত গাঢ় হয় ....
.......
....ঘুমে হারিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ....

দুঃখটুকরো

।১।

কেউ জানেনা দুঃখগুলো কবে
উঠোন ছেড়ে দৌড়িয়ে পালাবে

।২।

দুঃখগুলোর বসত কোথায়
দুঃখ ছেড়ে কেউ কি পালায়
এ ভবে যে সুখের কাঙাল
সে-ও পালায় দুখের কাছেই সুখকে ছেড়ে

।৩।
দুঃখটাকে আগলে রেখে বুকে
অশ্রুফোঁটা হাসির আলোয় ঢেকে
উঠেই দেখো খিলখিলিয়ে
দুঃখ আপন সবচে' আপন
দুখই জীবন

।৪।

দুঃখ নাকি আমার মানিকজোড়া
কেউ বলেনি বলছে মন-ই
মনটা বোধহয় ঘর ফিরেছে
অনেক অনেক রাতের পরে

।৫।

বহুদিন পর
চোখের শরীর বেয়ে
টপ টপ লবণপানি
দুঃখ বুঝি উছলে উছলে পড়ে

।৬।

কষ্ট লাগে..
অশ্রু লাগে..
দুঃখ লাগে..
এক জীবনে..
সবই লাগে..

জীবন-কবিতা

জীবন আর কবিতা নয় এক
তবুও জীবন কবিতায় এলোমেলো
নাকি জীবনই কবিতাকে এলোমেলো করে দেয় ...

কবিতা ছাড়া কেউ কেউ বাঁচে না..
আবার এই কবিতার জন্যই কেউ কেউ পারেনা জীবনকে পুরতে
হাতের মুঠোয়..
পারেনা চলতে.. আর দশটা মানুষের মতন
কবিতাই তাদেরকে আলাদা করে দেয়..
একা করে দেয়...