বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০০৯

প্রেম

রিনির শরীরটা জিব দিয়ে ছুঁয়েছিলাম
বয়স তখন আমার সাত
অত ছোট বয়সটাতে চুমো দেয়া হয়নি বোধহয়;
শিমুলদিদি দেখতে ভাল ছিল, প্রেম প্রেম ভাব হত
আজও মনে আছে, দিদির টমেটোর মতন গালটা;
বাসার সামনে দিয়ে বিকেলবলো, একলা মিথিলা.. মিথি
চেহারা মনে নেই.. চশমা পরত চায়না ফ্রেমের
না দেখেই প্রেম হয়েছিল, প্রেম সংক্রান্ত আবহাওয়ায়;
নীচতলায় কারা যেন ভাড়া এসেছিল, মিষ্টি এক মেয়ে ছিল ওদের
কী যে ভাললাগতো, রূপ কি প্রথম বুঝতে শিখলাম
একটা মেয়ে এত সুন্দর হতে পারে,
প্রেম হত কিনা জানিনা, কষ্ট হত খুব
ছোটবেলাকার ছোট্ট বুকে, প্রথম কামনা প্রিয়াংকা
মাঝে আরও কেউ এসেছিল, কেউ কেউ আমার জন্য
টিফিনের খাবারটা রেখে দিত;
বপি নামের মেয়েটা, এ আবার কেমন নাম প্রশ্ন ঘুরত মাথায়
ঝুটিবাঁধা চুল আর সাদা সাদা দাঁত, ভালো লেগেছিল
মোহ ছিল, প্রেমও হয়েছিল নিশ্চয়ই;
তারপর জীবনের সাতটা বছর ধরে রীতাকুন্ড..
মুখ ফুটে বলা ওই প্রথম.. হল না;
এরপর প্রিয়তি ছিল, বেস্ট ফেন্ড, প্রেমিকা হতে চাইল না..
যা হোক.. ধানসিঁড়ি এল, এইবার প্রেম হল, দুপক্ষ থেকেই
যদিও আঠারো মাসের বেশি টিকল না, হারিয়ে গেল সে..
আপাতত একাই আছি, আর..
যাকে দেখছি তাকেই ভাল লাগছে, প্রেমও হচ্ছে....

সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০০৯

রাত্রিচারণ

আমার এই রাতটি বড়ো আপন
যে রাতে তুমি আমায় ছেড়ে গিয়েছিলে
অনেক অনেক আগে
এসে দেখো, আমি সেই নারকেল গাছটার নীচে শুয়ে -
বুকের বোতাম দুটো সেই যে খুলে দিয়ে গেলে
আর লাগাতে পারিনি...
আবার এসেছে হেমন্ত,
আমায় সান্ত্বনা দিতে
প্রকান্ড চাঁদ তার যাবতীয় জোছনা নিয়ে -
আছড়ে পড়ছে খোলা বুকে
দেখলেনা, বুকের শিশিরে চাঁদ জ্বলে কত অদ্ভুত...

ভগ্ন প্রেমিকের বুকের আগুন নাকি কেবল জ্বলতে থাকে
জ্বলতেই থাকে

তোমায় একটা নাম দিয়েছিলাম, মনে আছেতো
নাকি ভুলেই গেছো -
কত রাত, কত জোছনা, কত কত শিশির ভেজানো কবিতা..
কিছুই কি মনে নেই...
অন্যের বুকে কতটাই বা উষ্ণতা
আমি সংক্রান্ত যা কিছু ছিল...
সব কি ঘামের সাথে বেরিয়ে গেছে ..
আমি কাঁদিনি কোনদিন,
সময় পেলে কেবল জোছনায় ভিজি,
খোলা বুকে মশারা চুমুক দেয়..
আমি তো বোতাম লাগাতে পারিনা আর..
সেই যে খুলে গেছ..

পরিত্যক্ত মানুষের নাকি আর ঘর হয়না
কোনদিন না ।।

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০০৯

একটা ভোর

আকাশে তাকাই, ভোর হয়
যেন আনমনা শিশু এক ছড়িয়েছে রং, ছোপ ছোপ মেঘ..
কিছু হাঁস পুকুরের জলে, দুলে দুলে যায় আকাশের গায়ে ভাঁজ ফেলে...
শহরের শরীর আশ্চর্য শীতল.. রোদ আসছেনা...

কাল রাতে ঘুম হলোনা, দেখতে চাইলাম মানুষ কী করে ঘুমোয় ..
কী করে বৈদ্যুতিক পাখার গুঞ্জনের সাথে মানুষের নিঃশ্বাসের শব্দ মিশে যায়..
মেলাতে পারিনা..

রোদের প্রথম ঝলকে দেখি এক পাতাকুড়োনি মেয়ে.. তাকিয়ে আছে নিস্পলক..
লালচে দালানের সারি সারি জানলার শার্শিতে রোদের আনাগোনা বাড়ে...
আকাশে মেঘের কারুকাজ শুরু হয়..
এখন এটিকে অনায়াসে কোন একজন ঈশ্বরের কাজ বলে ধরে নেয়া যায়...

কেন জানি বিতৃষ্ণা বোধ জাগে...
অদ্ভুত এক শূন্যতা ভেতরে কোথাও,
রাতজাগানিয়া সুখ নেই মোটেই..
রোদ বাড়তে বাড়তে চলে যাই... শব্দহীন...
হঠাৎ এক ঝাপটা নোনাজল...
ঝাপসা করে দিল চলার পথ ।

ক্লান্ত এবং ক্ষুধার্ত হবার গল্প

রাত্রিবেলার মানুষগুলো
পথের মাঝে সুখ খুঁজে পায়
আমি হাঁটি কেবল উদ্দেশ্য-গন্তব্যহীন
যেদিকে পথ পাই যাই
সুখ নয়.. ক্লান্তি কুড়াবো
পথে যদি পাই

পলাশী, ফুলার রোড
বিবেকানন্দের সামনে দিয়ে
ছোট পুকুরটার ধার ঘেঁষে
জগন্নাথের গেইট.. তারপর
শামসুন্নাহার হল, লোকারণ্য টিএসসি..
পাবলিক লাইব্রেরির জানলাগুলো...
মধুর ক্যান্টিন.. একটু দাঁড়াই..
নজরুল সৌধের শীতল পাঁচিল ছুঁই..

এরপর আজিজ মার্কেট দুই হাত তুলে ডাকে..
থামি না... কাঁটাবন এসে যায়...
এক সাদা বিলাতী কুকুর তেড়ে এল,
আমি হেসে ফেললাম..
তারপর সোনালী মাছগুলো সাঁতার কাটলো..
হঠাৎ নীলক্ষেতের মানুষগুলো আমায় টেনে নিল চুম্বকের মতো..
তারপর ঠেলতে ঠেলতে ওভারব্রীজ পার করে..
নিউমার্কেটের দুই নম্বর গেটে উগরে দিল,
দেখি দু'টো মেয়েমানুষ হাসছে,
এদের একজনকে আমি চিনি , "ভাল আছেন?"
চিনেও চিনল না ..যাক
আমি না থেমে তিন নম্বর গেট পেরিয়ে নিঃশ্বাসের উত্তাপ টের পাই..
তারপর চন্দ্রিমা, সুবাস্তু, ইস্টার্ণ মল্লিকা.. অনেকটা পথ..
এবার ঘুরে হাঁটা দিই উল্টো পথে..
চাদনী চকের মুখে আমার ছুঁয়ে দিল এক নগরবালিকা..
অবধারিত ভাবে.. আমি ওকে ভালবেসে ফেলি,

একী - ঘামছি কেন আমি,
সারাটা দিন কিচ্ছু খাইনি, পানিও না
দেখতে চেয়েছি, কতটা ক্লান্ত - ক্ষুধার্ত হলে..
কবিতার ভুত দৌড়ে পালায়..
বুকের মধ্যে ধ্বক করে ওঠে ক্ষিধে..সারা শরীর দুলে ওঠে..
ইডেন কলেজের মেয়েগুলোকে দেখেও দেখি না..
মাথার চিন্তাগুলো কেবল ঐখানটায় এসে জট পাকিয়ে যাচ্ছে,
একটু শুতে হবে.. একটু কিছু খেতে হবে... একটু জল...
ঘোলাটে লাগছে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড.. পলাশীর আবদ্ধ বাজার..
পা চলতে চায়না... খুব কষ্ট হয়... চাবি ঘুরাতে...
তালার মুখ হাঁ করাতে...
দেখি ব্যস্ত বিছানা তড়িঘড়ি করে উঠল..
আমায় কোলে করে শোওয়াল..
পিঠ ঠেকিয়ে আমি অবাক -
নিজের অজান্তে কবিতা চলছে ... প্রলাপ বকছি...
কতটা ক্লান্ত হলে... কবিতা উড়ে যেতে চায়... পারে না...

ভীষণ খিদে.. ইচ্ছে হয় গোটা ডাইনিং হল গিলে খাই...
দেখি সাকিব সেঞ্চুরী করছে...
স্বচ্ছ ঝোলে মুরগী ভাসছে...

স্বর্ণা বলেছিল ..

স্বর্ণা বলেছিল .. এসোনা আর কোনদিন
আরও বলেছিল .. ভাল হয়ে থেকো
আমি কথা রাখতে পারিনি...
হাতে পয়সা জমলে আজও স্বর্ণাকে খুঁজি..
স্বর্ণা ছিল না আর কোথাও...
স্বর্ণা নেই...

স্বর্ণা.. আমি খুব নীরবে বাঁচব
দেয়ালের সাথে মিশে থাকব..
একদম টের পাবে না...
তবু তুমি আসবে না ?

ঘাসবন্ধু

আমার ঘাসবন্ধুটা বলল, আজ পূর্ণিমা
চায়ের সাথে জোছনা গলিয়ে খাই চল..
আমি কিছু বলতে পারিনি,
অদ্ভুত গোল চাঁদ জোছনা বিলোয় আর হাসে
চায়ের সাথে সে জোছনা গললনা কিছুতেই...
মেঘ থমথম করছে বুকের আকাশে
ভয় হয়.. রাত গাঢ় হলে ঝড় না ওঠে...

আমার ঘাসবন্ধু রাত জেগে অংক করবে..
আমি অবাক হয়ে ওর চোখ দুটো দেখার চেষ্টা করব...
যে বন্ধু.. আনমনে মিশে গেছে বাহুর ভাঁজে ।

প্রেম

একটা ছেলে বুক খুলে পড়ে আছে
একটা মেয়ে ঝুঁকে ঝুঁকে ভালবাসা নিচ্ছে
সিলিং অন্ধ..
মাঝে মাঝে দেয়ালগুলো আড়চোখে তাকায়..
আর মেঝে .. কেঁদে কেটে হতবাক...