বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৯

আমি ভালবাসা বুঝিনা

তুমি তবু ভালবেসেছিলে
আমি তো তাও পারিনি
কারণ আমি ভালবাসা বুঝিনা আজও

একসময় ভাবতাম চোখে চোখ রেখে 'ভালবাসি'
বললেই বুঝি ভালবাসা হয়,
তাই তো দেখতে চেয়েছি তোমার চোখ..
চোখে চোখ পড়ার পর কী যে হলো..
কিছুই বলতে পারলাম না, তবুও বলতেই হবে...
চোখ বন্ধ করে কানে কানে বলে দিলাম..
তাও বোধহয় উচ্চারণে ভুল হলো...

প্রথম যেদিন হাত ধরলাম, সেদিনও বলতে পারতাম..
কিন্তু সঙকোচের ভারে ঐদিনও পারলাম না...
তার বদলে বললাম "বেশ নরম তো তোমার হাতটা"..
কী হাস্যকর...

প্রথম চুমু খাওয়ার পরও 'ভালবাসি' বলা যেত...
অথচ আমি কি করেছিলাম...
চোরের মতন এদিক ওদিক তাকিয়েছি...
মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে, "কেউ দেখেনি তো.."

আজ যখন তোমার আর আমার মাঝখানে কিছু নেই...
মানে আমিই শেষ করে দিয়েছি... তখনও
জোর দিয়ে বলতে পারিনা.. তোমায় সত্যি ভালবাসতাম..
মুঠোফোনেও না...

তবু তো তুমি সত্যি ভালবেসেছিলে..
আমি তো ভালবাসা বুঝিই না... বাসবো কী করে...

ঞরূদ

তোমার চুলে বুঝি সূর্য নিভে যাবে
তবু এস, চুলের গন্ধ নেব আমি ...
তোমার হাত ধরতে হবে অতি শীঘ্রই
তোমার চোখে চোখ রাখা দরকার
কেননা, তোমায় বড়ো প্রয়োজন
অতঃপর ঞরূদ, সবই তোমার আমার যা কিছু...
ঞরূদ... ঞরূদ... ঞরূদ...
আকাশ আর মাটি মিশে যাবে, তো...
তবুও এসো, আসতেই হবে...

তুমি আসছনা বলে, কিছু ভাবা যাচ্ছে না,
মারাত্মক স্থবিরতার মধ্যে আছি...
ভয়াবহ শূন্যতা ।।

ডায়েরির ছেঁড়া পাতা ; ২৮ নভেম্বর ২০০৯

আমার আরোপিত একাকীত্বকে ছিঁড়ে ফেলে, কিছুক্ষণ আগে
স্টীলের বাটিতে গরম দুধ দিয়ে গেছেন আমার আম্মা, তাকিয়ে দেখেছি
বাটি-চামচ-সাদা গরম দুধের ধোঁয়া পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে উঠেছে ওপরে...
তারপর বাতাসের সঙ্গে মিশে গিয়ে এক অদ্ভুত গল্প ... এই মুহুর্তে
ধোঁয়াটা বড়ো বেশি সূক্ষ্ম, খুব ভাল করে খেয়াল না করলে দেখাই যায় না,
দুধটা এখনও বেশ গরম.. অপেক্ষা করছি... আপাততঃ খাচ্ছিনা...

দুধ কেন খাবো.. দুধ খেলে কী হয়...
আম্মা কলের ধারে.. বাসন মাজছেন.. কলের হাতলে ধাক্কা মারছেন..
সেই আওয়াজটা অন্যরকম একটা কান্নার শব্দের মতন শোনাচ্ছে...

এখন একাকীত্ব জাপটে ধরেছে আমায়.. আরোপিত নয়.. সহজাত...
তাই কেমন একটা দমবন্ধ করা অনুভূতি... খারাপ বা কষ্ট লাগার কাছাকাছি...
দুধ খেতে ইচ্ছা করছে না.. তবু গিলতে হবে... ধূর...

আমাকেই বলছি

চাওয়া আর পাওয়ার হিসেবটা এখ্খুনি করে ফেলোতো...
প্রাপ্তির লিস্টিটা প্রথমে করো...
প্রথমে রাখো জন্ম (ওইটাই সবচে' বড় প্রাপ্তি এযাবৎ),
এরপর জন্মপরিচয়, বোন, আত্মীয়স্বজন..
মা-বাবা-বোনের স্নেহের কথা ভুললে অন্যায় হবে, ঢের পেয়েছে..
এক জীবনের জন্য যথেষ্ট... আরও চাও...
ছোট্টবেলায় খেলনা পেয়েছ অনেক, যদিও খেলাধূলা তেমন একটা করনি..
পড়াশোনায় মাঝামাঝি ছিলে.. কই, বেদনার স্মৃতি তো নেই স্কুল নিয়ে,
বন্ধু-বান্ধব তেমন একটা ছিলনা.. চাইতেও না তেমন,
বন্ধুহীন বিশেষণ টাকে বেশ তৃপ্তির সাথেই নিতে, অদ্ভুত...
তবুও তো কত্ত ভাল ভাল বন্ধু পেয়েছ..
ক'জনের ভাগ্যে এমন ভাল বন্ধু জোটে, বলো..
দেশের স'বচেয়ে ভাল প্রতিষ্ঠানে ভাল একটা সাবজেক্টে পড়াশোনা করছ..
এরাই তোমার এযাবৎ বড় বড় প্রাপ্তি.. কম কী..
অনেক.. অ-নেক ভাগ্যবান তুমি বুঝলে, দেখো...
প্রাপ্তি লিস্টিটা কত্ত বড়ো.. হুমম...

এবার দেখা যাক কী কী পেলে না (এযাবৎ যা চেয়েছ অথচ পাওনি)
হুমম.. গান শিখতে চেয়েছিলে.. পারনি.. বাহ্... তোমারই তো দোষ..
এই.. বাবাকে দোষ দেবে না খবরদার... তুমি আলসেমি করেছ.. কুণ্ঠিত থেকেছ...
যাও... এটা অপ্রাপ্তি বললে ভুল হবে... শুধু তাই না অন্যায় হবে..
চলো চলো.. তারপর.. অ.. কমন আপসেট.. লাভ ফ্যাক্টর.. হা হা হা..
রীতু.. হা হা হা... এই ওটা ছ্যাকা নয় বৎস.. মনে নেই ক্লাস সিক্সের ঘটনা..
মেয়েটাকে কীভাবে মিথ্যে অপবাদ দিয়েছিলে.. ছিঃ... জানো..
এটা কতবড় অন্যায়.. কতবড় পাপ... ও কোন হিসেবে তোমার হাত ধরবে...
তুমি ভাব কী করে আশ্চর্য.. ছিঃ ছিঃ.. আর তুমি সবাইকে কী বলে বেড়াচ্ছ...
উল্টো বলেছ.. নিজেকে সাধু বানিয়েছ.. হায়রে সাধু... আর কত ভাল সাজবে..
স্বীকার করে নাও তুমি পাপী...
তারপর বন্ধুত্বের দূর্বলতার সুযোগ নিলে আরেক কন্যার.. লজ্জার মাথা খেয়ে
প্রেম নিবেদন করলে.. তাও আবার এসএমএস-এ...
কী নাটক.. ভান করলে ওটা তামাশা.. কতটা লুসার তুমি,
পরে ঠিক ঠিক স্বীকার করলে..হাহ্.. তারপর.. ছন্দাকে কেমন ক'রে ঠকালে..
কী ভেবেছ.. ও তোমায় কোনদিন ক্ষমা করবে.. কখ্খনও না..
যদি করেও সেটা ওর মহত্ত্ব.. তুমি কোনভাবেই তার যোগ্যতা রাখনা...
শোনো.. ভালবাসা জিনিসটা পাওয়ার সকল যোগ্যতা তুমি হারিয়েছ...
দেখতেও কি বিচ্ছিরি তুমি.. ওয়াক... প্লিজ বাদ দাও এসব...
দেন... যণ্ত্রণা, দুঃখ, কষ্ট, বিষাদ.. ব্লা ব্লা ব্লা... আরে.. এসব তো প্রাপ্তি...
আরে গাধা, এসব সবারই থাকে.. স্যাডিস্ট হতে চাও, না... আত্মপ্রতারক...
তোমার কি কোন সাহস আছে... যা-হোক .. অন্য কিছু বলো...
কী.. মৃত্যু চাও... হা হা হা ... ভন্ডামি রাখো... ও যদি সত্যি আসে না...
তোমার যে কী অবস্থা হবে জানা আছে.. দৌড়ে কূল পাবে না, বুঝলে.. ভন্ড...
যে বন্ধুটা বেঁচে আছে, কী অবলীলায় তাকে মৃত বানিয়ে দিলে... হায়রে..
একটিবারও অসুস্থ বন্ধুটাকে দেখতে গেলে না...
খোঁড়া সব অজুহাত নিয়ে ব'সে আছ... আরে গর্দভ, নিজেকেই ঠকাচ্ছ..
তুমি আবার কবিতা ভালবাসো.. না.. কীভাবে আশা করো কবিতাকে...
একটা ঠগ, প্রতারক, মিথ্যেবাদী কখ্খনও কবিতা ভালবাসতে পারে না...
মানুষের কাছ থেকে করূণা ভিক্ষে করে চেটেপুটে খাও তুমি..
আচ্ছা.. কবিতা যখন আবৃত্তি কর (তোমারটা আবৃত্তি হয় না).. তখন কি
একটুও মনে পড়ে না ছন্দার কথা.. খারাপ লাগে না একটুও.. এতটা লম্পট তুমি..
কবিতা যখন লেখার ভান কর (কোনদিন কবিতা হবে না ওসব)... তখন
অসুস্থ বন্ধুটার কথা মনে পড়ে না.. যাকে মনে মনে মেরে ফেলেছ...
না... আর কিছু বলার নেই.. যথেষ্ঠ হয়েছে...
এবার বলো... প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব মেলানোর
কোন যোগ্যতা কি আর আছে তোমার... অবশেষ...
ভন্ডামি বাদ দাও... ঢের পেয়েছ...আর কী চাও...
এই হিসেবটা জীবনের শেষ প্রান্তে গিয়ে আবার করবে ...
মাঝখানে আর করো না.. অর্থহীন কাজ...
এখনও সময় আছে... প্রায়শ্চিত্ত কর.. প্রায়শ্চিত্ত কর...
অভিশাপ বহন করার মতোন শক্তি বা সাহস কোনটাই তোমার নেই ।।

সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৯

গন্তব্য ; একটি যৌক্তিক মৃত্যু

বিশুদ্ধ একাকীত্বের চাদর পরনে কিছু জীব
মহাকালের কুয়াশাচ্ছন্ন চৌরাস্তায় এসে একটু দাঁড়ালো,তাকালো
প্রথমে ডানে, তারপর বামে, আবার ডানে
রাস্তার ধারে সারি সারি মানবতার ল্যাম্পপোস্ট, কোনও কোনটা বিকল..
অনেক উপরে অন্ধকার, তারা যাকে আকাশ নাম দিয়েছে
দেখা যাচ্ছে না, তবুও তারা ভেবে নিচ্ছে -
তমসা ফুঁড়ে কিছু আলোকবিন্দু তখনও জ্বলজ্বল,ব্যস ওইটুকুই...

যেহেতু পেছনে ফেরা যায়না, তারা এগিয়ে যায় অনন্যোপায়
গন্তব্য ; একটি যৌক্তিক মৃত্যু,
চলতি পথে উষ্ণতার প্রয়োজন পড়বে
একটু পর পর গজিয়ে ওঠা স্টল থেকে ওরা
কয়েক কাপ কড়া প্রত্যাশায় চুমুক দেবে
তারপর আবার হেঁটে যাবে, প্রতিবন্ধকতায় হোঁচট খাবে
ক্লান্তি উড়ে আসবে, গায়ে এসে পড়বে
তবু ওরা এগিয়ে যাবে, ইতিহাস পায়ে মাড়াবে,
প্রত্যেকের কাঁধে এক বোঝা দায়ভার
যার বোঝা যত কম হবে, তার মৃত্যু তত যৌক্তিক আর অর্থবহ হবে
চলনসই একটা মৃত্যু গড়ে নিতে, ওরা সব করবে, স-ব...

পথে চোখে পড়বে আরো অনেক জীব, অসংখ্য, অগণিত
হেঁটে যাচ্ছে গা ঘেঁষে, একটু তফাতে, যেন মিছিলের পর মিছিল,
মাঝে মধ্যে চোখে চোখ পড়ছে, ওরা হাসছে,
ছোট্ট ছোট্ট আলাপচারিতায় মেতে উঠছে,
যে যার কথা বলেই চলেছে, মূলতঃ শুনছে না কেউই.. নাকি শুনছে
শব্দগুলো ছুটে বেরিয়ে যাচ্ছে..

কেউ কেউ আবার হঠাৎই গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে
আগ্রহ নিয়ে তাকাচ্ছে কেউ কেউ ..
ওরাও বুকের মধ্যে স্বপ্ন গুঁজে হেঁটে যাচ্ছে,
একটি সুন্দর মৃত্যু, এর থেকে আর সুন্দর কী হতে পারে ।।

মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০০৯

নারীর নয়; বরং চায়ের ঠোঁটে ঠোঁট রাখতে ইচ্ছে করি

অন্যান্য পথে আমি হেঁটে যাবো এইবার
পথ থেকে তোমাদের সুখ কুড়োবার
শখ শেষ
সব শেষ

একা বেঁচে ঈশ্বর হবো
বুক থেকে ছড়িয়ে দেবো
সোনা রঙ
যত রঙ

একদিন সময় করে
আকাশটা বুকে ধরে
সুর্যকে কামড়ে খাবো
তারপর ভুলে যাবো

এইবার মিশে যাই

ঘাসের মধ্যে মিশে যাই...
ধুলোর মধ্যে মিশে যাই....
আকাশ চেরা আগুন দেখি...
নতুন কুঁড়ির স্বপ্ন বুকে...
কোন গাছেদের নিদ্রা ভাঙে...

এই পৃথিবীর অন্য অন্য স্বপ্নচারী...
স্বপ্ন বানায় রঙবাহারী...

ডেকে ফেরে জলের মানুষ...
আসল মানুষ...
অদ্ভুত এক কুয়োর ভেতর..

অচেনা কোন্ স্বপ্নকিশোর...
গল্প দেখে... আকাশ লেখে...
আমি যেমন ঢেউ দেখিনি...
পাহাড়চূড়োর রূপ বুঝিনি... সুখ খুঁজিনি...
খুঁজতে খুঁজতে কেবল ধুলো... কেবল ঘাসে...
যাচ্ছি মিশে...
অভ্যস্ত দীর্ঘশ্বাসে...