হঠাৎ টের পেলাম,
এই মুহুর্তে ভীষণ এক ঝড় উঠবে
আমি বাতাসকে চিনি, সে আজ ভীষণ অস্থির
একটু একটু করে অন্ধকার নামে নগরীর পথে
বুড়ো বটগাছটার পাতার স্তুপে মাতম উঠেছে
আমি দেখতে পাচ্ছি,
ধুলোর ভেতর ছায়া জেগে উঠছে
ধীরে ধীরে সব জানলা বন্ধ হয়ে যায়
সকল দরোজায় কপাট পড়ে সশব্দে,
মেঘেদের মৌন মিছিল অধিকার করে নিচ্ছে
মানুষের আকাঙ্ক্ষিত আকাশ
নাগরিক পাখিদের তাড়াহুড়োতে কোথায় যেন সাইরেন বাজে
সশব্দে চলে যায় বার্তাবাহক গাড়ী
দিনমজুরের দল যাত্রীছাউনির নীচে জবুথবু
ছোট এক টোকাই প্লাস্টিকের থলে হাতে কোথায় যেন চলে যায়
ভিক্ষুকর থালায় উড়ে আসে মেহগনির ফল
কোন এক অন্ধগলির বাসিন্দা ডুকরে কেঁদে ওঠে
বদ্ধ জানলার ওপাশে -
মোমবাতির আলোয় দৃশ্যমান হয় সদ্যেজাতের মুখ;
আর আমি -
কেবল ঝড়ের গন্ধ শুকেঁ দেখি, ঝড় আসছে ।।
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০০৯
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০০৯
আমি আর এক কাপ ঠান্ডা চা
টেবিলের উপরটা ধুলোর রাজত্ব
তার এক কোণায় সাদা এক কাপ
সূক্ষ্ম ধোঁয়ার আনাগোনা নেই, নিষ্প্রভ চা
এই এক কাপ ঠান্ডা চা আর আমি
এই নিয়ে সংসার
বাকীটা ধুলোর অন্ধকার,
জানলা দিয়ে আলো আসে, ধুলো আসে
আমি এক কাপ চায়ের আশ্রয়ে
বাতাসে মিলিয়ে যাই
বাইরের পৃথিবীটা গাঢ় মেঘের আওতায়
ওটা আমার নয় আর
সবুজ মাঠ, চৈত্র্যের রোদ, দক্ষিণের বাতাস
আর যা কিছু -অন্য কারো
আমার শুধু
এক কাপ ঠান্ডা চা
যা কেবলই আমার ।।
তার এক কোণায় সাদা এক কাপ
সূক্ষ্ম ধোঁয়ার আনাগোনা নেই, নিষ্প্রভ চা
এই এক কাপ ঠান্ডা চা আর আমি
এই নিয়ে সংসার
বাকীটা ধুলোর অন্ধকার,
জানলা দিয়ে আলো আসে, ধুলো আসে
আমি এক কাপ চায়ের আশ্রয়ে
বাতাসে মিলিয়ে যাই
বাইরের পৃথিবীটা গাঢ় মেঘের আওতায়
ওটা আমার নয় আর
সবুজ মাঠ, চৈত্র্যের রোদ, দক্ষিণের বাতাস
আর যা কিছু -অন্য কারো
আমার শুধু
এক কাপ ঠান্ডা চা
যা কেবলই আমার ।।
অদ্ভুত শৈশব
সারবাঁধা অনেকগুলো কৃষ্ণচূড়ার গাছ,
ডিসেম্বরে তখন বার্ষিক পরীক্ষার সময়
একশোটা রোদ্দুর যেন গাছগুলোর ডালপালা চিরে
আছড়ে লুটোপুটি খেত, কবেকার চুন সুরকিতে..
আমার প্রথম ইস্কুল..
সকাল সকাল পরীক্ষার দিন
ঠান্ডায় হাত যেন চলতে চাইত না
কী ভীষণ ভয়ংকর অংক পরীক্ষা
নতুন নতুন পেন্সিল আর রবারের গন্ধে কেমন ভরে থাকত বিশাল ঘরটা
মস্ত বড় পরীক্ষার ঘর.. পরীক্ষা পরীক্ষা গন্ধ..
পরীক্ষা শেষ হলে মজার এক বন্ধ আসত,
তখনও কৃষ্ণচূড়ার লাল লাল মুখ নিয়ে বসে থাকত আমার ইস্কুলটা
আমার প্রথম মাঠ,
ছোটবেলাকার কারো সাথে কৃষ্ণচূড়ার রেণু নিয়ে খেলা.. বন্ধুহীন শৈশবের বেলা
নিজেকে নিয়ে তখন অঢেল সময়..
সাড়ম্বরে আসত ছাব্বিশ মার্চ..
সবাই লেফট-রাইট করত, আমি কেবল হুমড়ি খেতাম
আরো বড় এক মাঠ ছিল, সবাই স্টেডিয়াম ডাকত,
সবাই কত কী করত..
আমি কেবল বোকার মত দেখতাম..
যে বাসাটায় আমরা ভাড়া থাকতাম তার সামনের পথে
শিমুলের তুলো উড়ে উড়ে আসত..
বন্ধ ঘরে বুকের ভেতরে একটা মন পালাই পালাই করত,
সেই পুরনো বাড়িটার কোণায়, শ্যাওলায় শ্যাওলায়..
আমার অদ্ভুত শৈশবটুকু ফেলে আসতে হয়েছে ।।
ডিসেম্বরে তখন বার্ষিক পরীক্ষার সময়
একশোটা রোদ্দুর যেন গাছগুলোর ডালপালা চিরে
আছড়ে লুটোপুটি খেত, কবেকার চুন সুরকিতে..
আমার প্রথম ইস্কুল..
সকাল সকাল পরীক্ষার দিন
ঠান্ডায় হাত যেন চলতে চাইত না
কী ভীষণ ভয়ংকর অংক পরীক্ষা
নতুন নতুন পেন্সিল আর রবারের গন্ধে কেমন ভরে থাকত বিশাল ঘরটা
মস্ত বড় পরীক্ষার ঘর.. পরীক্ষা পরীক্ষা গন্ধ..
পরীক্ষা শেষ হলে মজার এক বন্ধ আসত,
তখনও কৃষ্ণচূড়ার লাল লাল মুখ নিয়ে বসে থাকত আমার ইস্কুলটা
আমার প্রথম মাঠ,
ছোটবেলাকার কারো সাথে কৃষ্ণচূড়ার রেণু নিয়ে খেলা.. বন্ধুহীন শৈশবের বেলা
নিজেকে নিয়ে তখন অঢেল সময়..
সাড়ম্বরে আসত ছাব্বিশ মার্চ..
সবাই লেফট-রাইট করত, আমি কেবল হুমড়ি খেতাম
আরো বড় এক মাঠ ছিল, সবাই স্টেডিয়াম ডাকত,
সবাই কত কী করত..
আমি কেবল বোকার মত দেখতাম..
যে বাসাটায় আমরা ভাড়া থাকতাম তার সামনের পথে
শিমুলের তুলো উড়ে উড়ে আসত..
বন্ধ ঘরে বুকের ভেতরে একটা মন পালাই পালাই করত,
সেই পুরনো বাড়িটার কোণায়, শ্যাওলায় শ্যাওলায়..
আমার অদ্ভুত শৈশবটুকু ফেলে আসতে হয়েছে ।।
লেবেলসমূহ:
অদ্ভুত শৈশবকেই উৎসর্গ করলাম
আরো একটি ঝড়ের কবিতা
বহুদিন পর কোন ঝড়ের কবিতা লিখছি,
কাল বিকেলে শরীরটাকে ডুবিয়েছিলাম ঝড়ের সমুদ্রে,
চার হাত-পা, বুক-পিঠ সব ছিল ভূমির সমান্তরালে..
ঘামে সপসপে হয়ে যাওয়া আদিম বুকটা
কঙ্ক্রিটের বেঞ্চিতে নকশা কেটে লেপ্টে,
বাতাসের ঘূর্ণিতে জগতের ধুলো
আমার মাথার চুলে জট পাকিয়ে যায়..
আর পিঠের উপর জড় বজ্রাসনে ধ্যানে,
তারপর..
যাবার আগে কিছু একটা বলেছিল সে..
বিদ্যুতের চমকের মত হয়তো তা ঝলসেও উঠেছিল,
অথচ আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন.. বাতাসের হাহাকারে
বজ্রের হুংকারে তন্দ্রা ভাঙলো ঠিকই
তবে ঝড়কে পেলাম না খুঁজে আর..
ঝর ঝর বৃষ্টি নামল ছাদের সাদা বুকে..
তখনও বৃষ্টি থামেনি,
ভাবছিলাম ভিজি..
সে কী মুষলধারের ধার..
ভয় হল.. ভাসিয়ে নেয় যদি..
আমি তো সাঁতার জানি না....
কাল বিকেলে শরীরটাকে ডুবিয়েছিলাম ঝড়ের সমুদ্রে,
চার হাত-পা, বুক-পিঠ সব ছিল ভূমির সমান্তরালে..
ঘামে সপসপে হয়ে যাওয়া আদিম বুকটা
কঙ্ক্রিটের বেঞ্চিতে নকশা কেটে লেপ্টে,
বাতাসের ঘূর্ণিতে জগতের ধুলো
আমার মাথার চুলে জট পাকিয়ে যায়..
আর পিঠের উপর জড় বজ্রাসনে ধ্যানে,
তারপর..
যাবার আগে কিছু একটা বলেছিল সে..
বিদ্যুতের চমকের মত হয়তো তা ঝলসেও উঠেছিল,
অথচ আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন.. বাতাসের হাহাকারে
বজ্রের হুংকারে তন্দ্রা ভাঙলো ঠিকই
তবে ঝড়কে পেলাম না খুঁজে আর..
ঝর ঝর বৃষ্টি নামল ছাদের সাদা বুকে..
তখনও বৃষ্টি থামেনি,
ভাবছিলাম ভিজি..
সে কী মুষলধারের ধার..
ভয় হল.. ভাসিয়ে নেয় যদি..
আমি তো সাঁতার জানি না....
এক অদ্ভুত সকাল
কিছু কিছু সকাল আসে
গায়ে জড়িয়ে হলুদ নরোম রোদ
যা কিনা নরোম হাঁসছানার চাইতেও
গতরাতে - আমায় না করে দিয়েছ তুমি
অথচ দেখো সকালটা কত অদ্ভুত
আমগাছটার গায়ে কেমন লেপ্টে আছে রোদগুলো ।।
গায়ে জড়িয়ে হলুদ নরোম রোদ
যা কিনা নরোম হাঁসছানার চাইতেও
গতরাতে - আমায় না করে দিয়েছ তুমি
অথচ দেখো সকালটা কত অদ্ভুত
আমগাছটার গায়ে কেমন লেপ্টে আছে রোদগুলো ।।
উল্টো আকাশ
কাল
একলা সকাল
ভীষণ ফর্সা মেঘ
স্বচ্ছ হলুদ রোদ
মিষ্টি কোন গান
খুব আপন বাতাস
অচেনা গাঢ় নীল ফুল
পুরনো ভালবাসা
টুকটুকে সূর্য
অবশেষে উল্টো আকাশ
একলা সকাল
ভীষণ ফর্সা মেঘ
স্বচ্ছ হলুদ রোদ
মিষ্টি কোন গান
খুব আপন বাতাস
অচেনা গাঢ় নীল ফুল
পুরনো ভালবাসা
টুকটুকে সূর্য
অবশেষে উল্টো আকাশ
কতটা একলা হলে কেউ
কতটা একলা হলে কেউ
কেবল নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনে
তার সাথে মিশে থাকে বাতাসের কিছু কথা
মাঝরাতের বিষণ্ন এক টুকরো অন্ধকার
স্যাঁতস্যাতে ঘুমোবার ঘরে পুরনো এক ফ্যানের কান্না
- আর কেবল নিঃসঙ্গতা
শেষ রাতে এক ছলক আলোয় ভেঙ্গে যাওয়া রাতের গভীরতা
কতটা একলা হলে কেউ
দিনের আলোর থেকে পথ খোঁজে পালাবার
আর জীবন থেকে
হারিয়ে যাওয়া প্রেম থেকে
বুকের একটি জায়গায় কেউ থাকেনা, সেখানে
শরীরের কোথাও এক টুকরো পুরুষমানুষ থাকে
কতটা একলা হলে কেউ
কেবল নিজেকে আদর করে ফেরে
কারো চোখে চোখ রাখতে ভয় পায়
ভুলে যায় ।।
কেবল নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনে
তার সাথে মিশে থাকে বাতাসের কিছু কথা
মাঝরাতের বিষণ্ন এক টুকরো অন্ধকার
স্যাঁতস্যাতে ঘুমোবার ঘরে পুরনো এক ফ্যানের কান্না
- আর কেবল নিঃসঙ্গতা
শেষ রাতে এক ছলক আলোয় ভেঙ্গে যাওয়া রাতের গভীরতা
কতটা একলা হলে কেউ
দিনের আলোর থেকে পথ খোঁজে পালাবার
আর জীবন থেকে
হারিয়ে যাওয়া প্রেম থেকে
বুকের একটি জায়গায় কেউ থাকেনা, সেখানে
শরীরের কোথাও এক টুকরো পুরুষমানুষ থাকে
কতটা একলা হলে কেউ
কেবল নিজেকে আদর করে ফেরে
কারো চোখে চোখ রাখতে ভয় পায়
ভুলে যায় ।।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)