হীরে মুক্তো নেই
তবু ডানপাশের কপাট টেনে
বাঁ পাশটা আড়াল করেছি,
জানলা ধারে উপাদেয় রোদ পাওয়া যেত
কিন্তু কোন জানলাই নেই,
তবু বাঁ পাশটা ঢেকে রাখি
কেননা খুলে দিলেই ধুলো আসে, মাছি বসে
এরপরও রঙিন একটা ঘুড়ি
একটা সাদা মোমবাতি
আর সামান্য একগাছা দড়ি,
সবাই বলেছে, তবু বলি -
হীরে-মুক্তো কখনও ছিল না,
তবে কষ্টগুলো ঠিকই ছিল
চাইনি, ওসবে মাছি বসুক...
তাই দড়িতে বেঁধে
ঈশ্বরের সিলিঙে
ঝুলিয়ে দিলাম পুরো বাড়িটাই ।।
রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০১০
সোমবার, ১ মার্চ, ২০১০
কইন্যা আর আড়িয়াল খাঁ
কহে আড়িয়াল খাঁ -
"অতটুকুন জল,
কইন্যা তোর সিনান হবে !
দ্যাখ, তোর ছায়ায় আমার
জল কেমুন তিরতির কইরে কাঁপে ।"
কইন্যা মানেনা, বেণী দুলাইয়ে
জোড়া ভ্রুঁ নাচাইয়ে তুফান তুইলে যায়
আড়িয়াল খাঁ'র বুকের মধ্যে হু হু বইয়ে যায়,
কইন্যা কহে -
"তোর বুকেই মইরব, দেখিস ।"
কড়্ড়ত কইরি বাজ পইড়ল আড়িয়াল খাঁ'র বুকে,
হা রে বিধির বিধি,
আঁকাবাঁকা কইন্যার আলো নিয়া
ফুইট্টা রইল জল,
আর মইরল আড়িয়াল খাঁ ।।
"অতটুকুন জল,
কইন্যা তোর সিনান হবে !
দ্যাখ, তোর ছায়ায় আমার
জল কেমুন তিরতির কইরে কাঁপে ।"
কইন্যা মানেনা, বেণী দুলাইয়ে
জোড়া ভ্রুঁ নাচাইয়ে তুফান তুইলে যায়
আড়িয়াল খাঁ'র বুকের মধ্যে হু হু বইয়ে যায়,
কইন্যা কহে -
"তোর বুকেই মইরব, দেখিস ।"
কড়্ড়ত কইরি বাজ পইড়ল আড়িয়াল খাঁ'র বুকে,
হা রে বিধির বিধি,
আঁকাবাঁকা কইন্যার আলো নিয়া
ফুইট্টা রইল জল,
আর মইরল আড়িয়াল খাঁ ।।
ইচ্ছেরা স্বপ্ন হবে
কিছু ইচ্ছেরা স্বপ্ন হবে বলে
ফুটে থাকা রূপোলী ফুলের গভীরে
আলোর সমুদ্রে
সাঁতরে এসেছে, স্বপ্ন হবে,
আংশিক আকাশ পর্যাপ্ত রক্তিম,
প্রাকৃত যন্ত্রণাকে একপাশে ঠেলে,
বিহ্বল কুয়াশায় বিপর্যস্ত অবয়ব -
ম্রিয়মাণ প্রত্যাশাকে উজ্জ্বল বারান্দার
আকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবে পুনর্জীবিত করা হবে;
সেই ইচ্ছেরা স্বপ্ন হবে,
হবে স্বল্পায়ু সুখসমূহ যূথবদ্ধ
পারস্পরিক চুম্বন এবং আলিঙ্গনে,
হতাশা এবং বীতশ্রদ্ধতার ফাটলগুলো
মিলিয়ে যাবে শিশির জমতে জমতেই,
আশ্চর্য এক সুখ বসে যাবে
বিষাদের ব্যক্তিগত উঠোনে;
প্রিয় ইচ্ছেরা স্বপ্ন হবে
তারপর ভেঙ্গে যাবে খানখান ।।
ফুটে থাকা রূপোলী ফুলের গভীরে
আলোর সমুদ্রে
সাঁতরে এসেছে, স্বপ্ন হবে,
আংশিক আকাশ পর্যাপ্ত রক্তিম,
প্রাকৃত যন্ত্রণাকে একপাশে ঠেলে,
বিহ্বল কুয়াশায় বিপর্যস্ত অবয়ব -
ম্রিয়মাণ প্রত্যাশাকে উজ্জ্বল বারান্দার
আকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবে পুনর্জীবিত করা হবে;
সেই ইচ্ছেরা স্বপ্ন হবে,
হবে স্বল্পায়ু সুখসমূহ যূথবদ্ধ
পারস্পরিক চুম্বন এবং আলিঙ্গনে,
হতাশা এবং বীতশ্রদ্ধতার ফাটলগুলো
মিলিয়ে যাবে শিশির জমতে জমতেই,
আশ্চর্য এক সুখ বসে যাবে
বিষাদের ব্যক্তিগত উঠোনে;
প্রিয় ইচ্ছেরা স্বপ্ন হবে
তারপর ভেঙ্গে যাবে খানখান ।।
ঈশ্বরের পিঠাগাছ
অল্প একটু আকাশ তার
রুটিনমাফিক নেমে আসে রোদের সারস,
ব্যক্তিগত উঠোনজুড়ে কুয়াশার বিপরীতে
সম্পূর্ণ একা দাঁড়িয়ে সে
ছিঁড়তে থাকে কল্পনার নিষিদ্ধ গন্ধে
গর্ভধারণ করা স্বপ্নের ফুলগুলো,
উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বৈষয়িকতাটুকু নিংড়ে
যেটুকু জল, তা বিকোয় নিজের কাছেই
বাণিজ্যিক বাতাসের প্ররোচনায়
সে ছুঁতে চায় অপেক্ষাকৃত উঁচুর অধিবাসী
উচ্চবিত্ত মেঘ,
তার অনুভূতির ঝিল টলোমল,
কেননা অসংখ্য উরু
ওসবের ভেতর দুঃখ এবং যন্ত্রণা
শরীরময় পিঠার অত্যাচার
ফুঁসে ওঠে নিজস্ব সমুদ্র,
ছোটখাটো পিঠাগাছ
থোকা থোকা ভালবাসা
কিন্তু কে নেবে -
ঈশ্বরের আসবার কথা ছিল, আসেনননি
উনি আসেননা ।
রুটিনমাফিক নেমে আসে রোদের সারস,
ব্যক্তিগত উঠোনজুড়ে কুয়াশার বিপরীতে
সম্পূর্ণ একা দাঁড়িয়ে সে
ছিঁড়তে থাকে কল্পনার নিষিদ্ধ গন্ধে
গর্ভধারণ করা স্বপ্নের ফুলগুলো,
উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বৈষয়িকতাটুকু নিংড়ে
যেটুকু জল, তা বিকোয় নিজের কাছেই
বাণিজ্যিক বাতাসের প্ররোচনায়
সে ছুঁতে চায় অপেক্ষাকৃত উঁচুর অধিবাসী
উচ্চবিত্ত মেঘ,
তার অনুভূতির ঝিল টলোমল,
কেননা অসংখ্য উরু
ওসবের ভেতর দুঃখ এবং যন্ত্রণা
শরীরময় পিঠার অত্যাচার
ফুঁসে ওঠে নিজস্ব সমুদ্র,
ছোটখাটো পিঠাগাছ
থোকা থোকা ভালবাসা
কিন্তু কে নেবে -
ঈশ্বরের আসবার কথা ছিল, আসেনননি
উনি আসেননা ।
বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
দাম্পত্য
আমার পাশাপাশি চলমান তোমার পারফিউম এবং সেলফোন
আমার ছায়াটুকুও এখন নেই
তোমার রিবন্ডিং চুল, আমার উইগ
গোটানো আস্তিনে ভয়াবহ ধুলো
শহুরে গাছেদের অশ্রুর ফোঁটা নাগরিক ধুলোর সঙ্গে
পার্শ্ববর্তী রাজপথে যায়, সহবাস দেখবে বলে...
পিচ-ডানলপ-পাথর-গাঁদাফুল,
তোমার গেট টুগেদার পার্টি, জন্মদিন, প্রাথমিক নাগরিক বিজ্ঞান
বাসন্তী শাড়ী, রিক্সার চাকার চকচকে আঙ্গুল;
তোমার মানবিক বোধ আর জৈবিক পর্যালোচনার ত্রৈমাসিক সম্মেলন,
লোন করে কেনা জাপানী গাড়ি,
তোমার গোসল, ডিওডোরেন্ট, কন্ট্রাসেপটিভ...
আমার জুতোর ফিতে, গলার টাই, নটা-পাঁচটা
তার আশেপাশে চেপেচুপে রাখা
যৌথ এবং ভীষণ ব্যক্তিগত নানাবিধ স্বপ্ন...
বাজারের ফর্দ আর রান্নার রেসিপির মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যটুকু;
আমাদের ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক,
বিছানায় ম্যাট্রেস, অন্তঃসারশূন্য আরামদায়ক অনুভূতি,
মাথার ভেতরে কোথাও আন্দোলন,
পৃথিবীর যাবতীয় যুদ্ধবিমানের চাপা আর্তনাদ,
এরপর লোডশেডিং, এরোসল, স্ট্রবেরি কনডম এবং সেলফোন
তারপর দুঃখ ।।
আমার ছায়াটুকুও এখন নেই
তোমার রিবন্ডিং চুল, আমার উইগ
গোটানো আস্তিনে ভয়াবহ ধুলো
শহুরে গাছেদের অশ্রুর ফোঁটা নাগরিক ধুলোর সঙ্গে
পার্শ্ববর্তী রাজপথে যায়, সহবাস দেখবে বলে...
পিচ-ডানলপ-পাথর-গাঁদাফুল,
তোমার গেট টুগেদার পার্টি, জন্মদিন, প্রাথমিক নাগরিক বিজ্ঞান
বাসন্তী শাড়ী, রিক্সার চাকার চকচকে আঙ্গুল;
তোমার মানবিক বোধ আর জৈবিক পর্যালোচনার ত্রৈমাসিক সম্মেলন,
লোন করে কেনা জাপানী গাড়ি,
তোমার গোসল, ডিওডোরেন্ট, কন্ট্রাসেপটিভ...
আমার জুতোর ফিতে, গলার টাই, নটা-পাঁচটা
তার আশেপাশে চেপেচুপে রাখা
যৌথ এবং ভীষণ ব্যক্তিগত নানাবিধ স্বপ্ন...
বাজারের ফর্দ আর রান্নার রেসিপির মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যটুকু;
আমাদের ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক,
বিছানায় ম্যাট্রেস, অন্তঃসারশূন্য আরামদায়ক অনুভূতি,
মাথার ভেতরে কোথাও আন্দোলন,
পৃথিবীর যাবতীয় যুদ্ধবিমানের চাপা আর্তনাদ,
এরপর লোডশেডিং, এরোসল, স্ট্রবেরি কনডম এবং সেলফোন
তারপর দুঃখ ।।
সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
কেন শুধু আকাশ দেখতে চাও
কষ্ট পেলে আকাশ দেখ বুঝি
তোমার নিজস্ব আকাশ,
কেন শুধু আকাশ দেখতে চাও
আরো কত কি দেখার আছে
ওই মেয়েটিকে দেখ
ওর বাবা ছিলনা
তবু জন্মটা কোন রহস্যই নয়
বড়ও হয়ে গেছে হুট করে
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দায়
সে বয়ে যাচ্ছে খেটে
দিনের পর দিন
রাতের পর রাত
কেননা খেতে হয় কিছু ভাত
শেষ কবে ঘুরে ঘুরে আকাশ দেখেছে...
তবু ওকে সাজতে হয়
ঠোঁটের উপর রং লাগিয়ে
চুল বাঁধতে হয়
শরীর সাজাতে হয়
দেখাতে হয়...
তুমি শুধু আকাশ দেখতে চাও
নিজস্ব আকাশ,
তোমার মত করে জন্মালে
এতদিনে সেও স্বপ্ন বুনত, নানাবিধ
হয়ত থাকত একটা ভালবাসার মানুষও ...
আজ তুমি জড়িয়ে গেছ, আইনসম্মত
স্বাস্থ্যকর, এবং নিরাপদ শারীরিক সম্পর্কে,
ওর কিন্তু বাসর হয় প্রতিদিন, একাধিকবার
কতিপয় নষ্ট পুরুষ
ওকে কামড়ে কামড়ে খায়...
কষ্ট পাচ্ছ, আগুন বুঝি..
ওরও, বুকের মধ্যে একধরণের আগুন জ্বলে,
আলাদা আগুন, বুঝালেও বুঝবেনা তুমি,
ভীষণ কষ্ট পেলে আকাশে তাকাও,
মেয়েটিও কি তাকাতে চায়
তার নিজস্ব আকাশে ...
তোমার নিজস্ব আকাশ,
কেন শুধু আকাশ দেখতে চাও
আরো কত কি দেখার আছে
ওই মেয়েটিকে দেখ
ওর বাবা ছিলনা
তবু জন্মটা কোন রহস্যই নয়
বড়ও হয়ে গেছে হুট করে
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দায়
সে বয়ে যাচ্ছে খেটে
দিনের পর দিন
রাতের পর রাত
কেননা খেতে হয় কিছু ভাত
শেষ কবে ঘুরে ঘুরে আকাশ দেখেছে...
তবু ওকে সাজতে হয়
ঠোঁটের উপর রং লাগিয়ে
চুল বাঁধতে হয়
শরীর সাজাতে হয়
দেখাতে হয়...
তুমি শুধু আকাশ দেখতে চাও
নিজস্ব আকাশ,
তোমার মত করে জন্মালে
এতদিনে সেও স্বপ্ন বুনত, নানাবিধ
হয়ত থাকত একটা ভালবাসার মানুষও ...
আজ তুমি জড়িয়ে গেছ, আইনসম্মত
স্বাস্থ্যকর, এবং নিরাপদ শারীরিক সম্পর্কে,
ওর কিন্তু বাসর হয় প্রতিদিন, একাধিকবার
কতিপয় নষ্ট পুরুষ
ওকে কামড়ে কামড়ে খায়...
কষ্ট পাচ্ছ, আগুন বুঝি..
ওরও, বুকের মধ্যে একধরণের আগুন জ্বলে,
আলাদা আগুন, বুঝালেও বুঝবেনা তুমি,
ভীষণ কষ্ট পেলে আকাশে তাকাও,
মেয়েটিও কি তাকাতে চায়
তার নিজস্ব আকাশে ...
সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১০
সমান্তরাল
শীতল দীর্ঘ দেহ, শুয়ে আছি বহুকাল
সমান্তরাল,
নিষ্প্রাণ পাথরের ভীড়ে আধডোবা, দেখি
ঝিকঝিক আর্তনাদে
ক্ষণিকের তুফান উড়িয়ে, ছুটে আসে
ইস্পাতের ঘোড়াগুলি, মাঝে মাঝে
আমি ওদের বুঝি না,
চিনিনা কাউকেই,
কেবল মানুষ দেখি -
সাদা-কালো, হরেক রঙিন, মরচে ধরা
দেখি সাহসী কিশোর, উলঙ্গ শিশু...
আমার উপর দিয়ে
হাতে-হাত রেখে হেঁটে যায় প্রেমমগ্নরা, কত
চলে যায় এলোমেলো পথভোলা, কত
আমার উপর কাটা প'ড়ে
শুয়ে থাকে, ম'রে থাকে, কত
আরো অজস্র চলচ্চিত্র
এইসব দেখে থাকি,
মিশে থাকি ঘাস-মাটি-কাঁটাঝোপ,
প'ড়ে থাকি, দীর্ঘ শীতল, বহুকাল
সমান্তরাল ।।
সমান্তরাল,
নিষ্প্রাণ পাথরের ভীড়ে আধডোবা, দেখি
ঝিকঝিক আর্তনাদে
ক্ষণিকের তুফান উড়িয়ে, ছুটে আসে
ইস্পাতের ঘোড়াগুলি, মাঝে মাঝে
আমি ওদের বুঝি না,
চিনিনা কাউকেই,
কেবল মানুষ দেখি -
সাদা-কালো, হরেক রঙিন, মরচে ধরা
দেখি সাহসী কিশোর, উলঙ্গ শিশু...
আমার উপর দিয়ে
হাতে-হাত রেখে হেঁটে যায় প্রেমমগ্নরা, কত
চলে যায় এলোমেলো পথভোলা, কত
আমার উপর কাটা প'ড়ে
শুয়ে থাকে, ম'রে থাকে, কত
আরো অজস্র চলচ্চিত্র
এইসব দেখে থাকি,
মিশে থাকি ঘাস-মাটি-কাঁটাঝোপ,
প'ড়ে থাকি, দীর্ঘ শীতল, বহুকাল
সমান্তরাল ।।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)